Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » » » পাকিস্তানিদের শেষ চেষ্টা ও একটি আত্মসমর্পনের দলিল




১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বাংলাদেশে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তার সমাপ্তি হয় ১৬ ডিসেম্বর। নয় মাসের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে রেসকোর্সের ময়দানে সৈন্যবহরসহ পাকিস্তানের ইস্টার্ণ কমাণ্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করে। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন একটি দেশের জন্ম হয়, নাম বাংলাদেশ। এই দেশের স্থপতির নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। Unibots.in আত্মসমর্পনের আগের শেষ কটা দিন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেননা ডিসেম্বরের প্রথম থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৩টি ঘটনা ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) অবস্থান করা পাকিস্তানি বাহিনী এদেশকে নিয়ন্ত্রণের শেষ চেষ্টা করেছে, ১৪ ডিসেম্বর হাজার হাজার বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করেছে, পাকিস্তানি বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করেছে। এছাড়া এই মাসের মধ্য ভাগে বিজয়ের ৩ দিন আগে আমেরিকার সপ্তম নৌবহর বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এর বিপরীতে রাশিয়া পূর্ব পাকিস্তানকে (বাংলাদেশ) সহযোগিতা করার জন্য অস্টম নৌবহর পাঠায়। এর ফলে উত্তেজনা তৈরি হয় সমুদ্রে। ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তান তাদের নিয়ন্ত্রিত প্রায় সব এলাকা হারিয়ে বসেছে তখন পশ্চিম পাকিন্তানের সঙ্গে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ফোনালাপে বেশির সময় কাটাতে দেখা গেছে ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল নিয়াজিকে। এদিকে, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ড. মালেকের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি ১৯৭১ সালের আজকের দিনে জাতিসংঘের কাছে সহযোগিতা চেয়ে এক বার্তা পাঠায়। এদিকে, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ড. মালেকের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলি ৭১’ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তান থেকে সামরিক ও বেসামরিক পাকিস্তানিদের পশ্চিম পাকিস্তানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের কাছে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু জাতিসংয়ে পাকিস্তানের স্থায়ী দূত আগাশাহী সে বার্তা না গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানান জাতিসংঘ বরাবর। এই অবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানে যখন পাকিস্তানি সৈন্য প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে আত্মসমর্পনের কথা ভাবছিল তখন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার তখনো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শেষ চেষ্টা করে যাচ্ছিল। ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর কবলমুক্ত যশোরের টাউন হল মাঠে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্তগুলো হলো: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ২৫ মার্চের আগের মালিককে সম্পত্তি ফেরত দান, সব নাগরিকের সমঅধিকার এবং চারটি রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ। বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে যশোর সার্কিট হাউসে বলেন, তারা তাড়াতাড়ি সংবিধান রচনা করবেন যা ২৪ বছরে পাকিস্তান করতে পারেনি। অন্যদিকে, তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়ার প্রতিনিধি ভোরেন্ডসভকে হুঁশিয়ার করে বলেন, পরদিন (১২ ডিসেম্বর) মধ্যাহ্নের আগে ভারতকে অবশ্যই যুদ্ধ বিরতি মেনে নিতে বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেই প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুঁশিয়ারি সামান্যতম মনোবল ভাঙতে পারেনি মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানীদের। । মুক্তিবাহিনীর বীর ক্র্যাক প্লাটুন সকাল ১০টায় তোপখানা রোডের মার্কিন তথ্যকেন্দ্র অভ্যন্তরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটায়। গেরিলারা সারা ঢাকার প্রত্যেক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানি বাহিনী হেলিকপ্টারে করে কমান্ডো নামানোর চেষ্টা করেও সফল হয়নি। ঢাকার চার পাশে মিত্রবাহিনী নির্দিষ্ট এলাকায় রাতে ছত্রীসেনা অবতরণ করায়। এর পরদিন মুক্তিসেনার ঢাকায় ঢুকে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেলভিন লেয়ার্ড ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অপসারণের ব্যাপারে তার দেশের পরিকল্পনা রয়েছে। এন্টারপ্রাইজের ভারত মহাসাগরের দিকে যাত্রা শুরু করার খবরটি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। দিল্লিতে ভারত সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহরের উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। ঢাকায় আটকে পড়া কয়েক শ নাগরিককে উদ্ধার করার জন্য এই শক্তি প্রদর্শন অপ্রয়োজনীয়। সপ্তম নৌবহর যাত্রা করে থাকলে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির জন্যই তা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমস ওই খবরে ওয়াশিংটনের একটি খবর উদ্ধৃত করে আরও বলে, সোভিয়েত ইউনিয়নও ভারত মহাসাগরে তার নৌশক্তি জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার সংবাদদাতা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ভারত মহাসাগরে একটি রাশিয়ান নৌবহর সমবেত হয়েছে। প্রায় এক ডজন যুদ্ধজাহাজ এবং আণবিক শক্তিচালিত ১০টি সাবমেরিন এ নৌবহরের অন্তর্ভুক্ত বলে ধারণা করা যাচ্ছে। শেষে পর্যণ্ত আমেরিকার সপ্তম নৌবহর পেছনের চলে গেলে রাশিয়ার অষ্টম নৌবহরও সরে যায়। পাকিস্তান সরকার যখন বুঝতে পারে তাদের পরাজয় নিশ্চিত তখন ভয়ঙ্কর একটি পরিকল্পনা করে। এদেশে তাদের দোসরদের সহযোগিতায় সারা দেশ বিশেষ করে ঢাকায় অবস্থানরত বুদ্ধিজীবী হত্যায় নামে। শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিক, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী সহ বুদ্ধিজীবীদের গণহারে হথ্যা চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় মাটিতে পুতে রাখে। যুদ্ধের নয়মাসে পরিরকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা চালালেরও ১৪ ডিসেম্বর তারা একযোগে বুদ্ধিজীবী নিধনে নামে। তাদের এই হত্যাকাণ্ডে আমরা হারিয়েছি জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের। ১৫ ডিসেম্বর একবার জাতিসংঘের সঙ্গে আবার পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চালিয়ে যায় পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক কমাণ্ড প্রধান জেনারেল নিয়াজী। রাশিয়ার প্রশ্নে কিছুতেই আর সামনে এগোয়নি আমেরিকা। অন্যদিকে, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার আমতা আমতা শুরু করে। এই অবস্থায় রাও ফরমান আলীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে জেনারেল নিয়াজী বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পনের সিদ্ধান্ত নেয়। এবং বিশেষ মারফত যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পনের বার্তা পাঠায় এ দু’জন। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর দেওয়া প্রায় সব শর্তই মেনে নেয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী। পাকিস্তান চেয়েছিল গোপনে আত্মসমর্পন অনুষ্ঠান করবে। কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জে এফ আর জ্যাকব জানিয়ে দেন, অনুষ্ঠান হবে প্রকাশ্যে। অবশেষে রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানের ৯১ হাজার ৫৪৯ জনের সৈন্যবহরসহ আত্মসমর্পনের দলিলে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের কমান্ডার লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর পক্ষে দলিলে স্বাক্ষর করেন কমান্ডার-ই-চিফ লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ছিলেন সেসময়ে বিমান বাহিনীর প্রধান ও মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান এয়ার কমোডর এ কে খন্দকার। আত্মসমর্পনের দলিলে যা লেখা আছে- পূর্ব রণাঙ্গনে ভারতীয় ও বাংলাদেশি যৌথ বাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে, পাকিস্তান পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড বাংলাদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানের সব সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পনে সম্মত হলো। পাকিস্তানের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সব আধা-সামরিক ও বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে এই আত্মসমর্পণ প্রযোজ্য হবে। এই বাহিনীগুলো যে যেখানে আছে, সেখান থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কর্তৃত্বাধীন নিয়মিত সবচেয়ে নিকটস্থ সেনাদের কাছে অস্ত্রসমর্পণ ও আত্মসমর্পণ করবে। এই দলিল স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার নির্দেশের অধীন হবে। নির্দেশ না মানলে, তা আত্মসমর্পণের শর্তের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে এবং তার প্রেক্ষিতে যুদ্ধের স্বীকৃত আইন ও রীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আত্মসমর্পনের শর্তাবলীর অর্থ অথবা ব্যাখ্যা নিয়ে কোনো সংশয় দেখা দিলে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণকারী সেনাদের জেনেভা কনভেনশনের বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করছেন এবং আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সামরিক ও আধা-সামরিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও সুবিধার অঙ্গীকার করছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার অধীন বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিক, সংখ্যালঘু জাতিসত্তা ও জন্মসূত্রে পশ্চিম পাকিস্তানি ব্যক্তিদের সুরক্ষাও দেওয়া হবে।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply