Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

সাম্প্রতিক খবর


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

mujib

w

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » » ইকোনমিস্টের নিবন্ধ নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন ইসরাইলের




গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের অব্যাহত হামলায় সেখানকার বাসিন্দারা বিপর্যয়কর ক্ষুধা মোকাবিলা করছে। উপত্যকাটির ২৩ লাখ মানুষের দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। এরইমধ্যে সম্প্রতি ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা বেড়েছে। নিজ দেশেই দিন দিন সমর্থন কমছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। ছবি: সংগৃহীত লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামাসের শীর্ষ নেতার হত্যা ও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুবার্ষিকীতে সন্ত্রাসী হামলা আঞ্চলিক সংঘাত আরও উসকে দিয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কৌশলগত ভুল করার অভিযোগ রয়েছে, যে কারণে ইসরাইল নিজেই তার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছ বলে মনে করা হয়। গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের আচমকা হামলায় ইসরাইল নতুন করে নিজ দেশের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করে। এরমধ্যে রয়েছে সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ, প্রযুক্তি ব্যবহার ও ফিলিস্তিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়া। ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরাইলের সীমান্ত প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিয়েছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের ড্রোন। এছাড়া ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতিদের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মুখে রয়েছে ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আরও পড়ুন: ‘হিজবুল্লাহ যুদ্ধে ভয় পায় না’, ইসরাইলকে কঠোর হুঁশিয়ারি নাসরাল্লাহ’র একটি নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার শাসন ক্ষমতা থেকে হামাসকে অপসারণ করতে চায় ইসরাইল। গাজায় ইসরাইল এমন একটি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যাতে ভবিষ্যতে আর এই অঞ্চল নিয়ে তাদের মাথা ঘামাতে না হয়। এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রাখা এবং গাজায় আরও ত্রাণ সহায়তা বাড়ানো। ২০০৫ সালে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর ২০০৭ সালে হামাসের ক্ষমতা দখলের পরপরই ছোট ভূখণ্ডটিতে জল-স্থল-আকাশপথে অবরোধ আরোপ করে ইসরাইল। সেইসঙ্গে অবরুদ্ধ এলাকাটিতে সব ধরনের জরুরি সেবা ও পণ্য আমদানির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছিল দেশটি। গাজার নতুন শাসন ব্যবস্থায় ইসরাইলের লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী তেল আবিবের পক্ষে সমর্থন তৈরি করা, যা তাদের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন। তবে দুঃখজনকভাবে, নেতানিয়াহু গাজার বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে এই যুক্তিকে উপেক্ষা করেছেন বলে মনে হচ্ছে। গাজা যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা, যুদ্ধবিধ্বস্ত বাসিন্দাদের জন্য পর্যাপ্ত সাহায্য পৌঁছানো এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পদক্ষেপের ব্যাপারে ইসরাইলের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। আরও পড়ুন: ঘাতকদের কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি রাইসির ইসরাইল সরকারের কট্টরপন্থিরা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত করতে চায়। যে কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই অবস্থায় নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক দুর্বলতার চিত্রই ফুটে উঠেছে। কারণ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তার জোট ও ইসরাইলি ভোটারদের মধ্যে কট্টরপন্থিদের চাওয়াকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। এই নীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আর আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকতে পারে। এই ধরনের অদূরদর্শী কৌশলের পরিণতিতে ইসরাইল বৃহত্তর নিরাপত্তা উদ্বেগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে বাধার সম্মুখীন হতে পারে। বিশেষ করে দেশটির উত্তর ফ্রন্টে, যেখানে হিজবুল্লাহর আক্রমণের প্রবল হুমকি রয়েছে। এদিকে নিজ দেশেই দিন দিন সমর্থন কমছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। ইসরাইলের মাত্র ১৫ শতাংশ নাগরিক তাকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। ইসরাইলের ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (আইডিআই) প্রকাশিত এক জরিপে জানা গেছে, নেতানিয়াহুর তুলনায় দেশটির যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গান্টজের সমর্থন অনেক বেশি। তিনি দেশটির অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। আরও পড়ুন: গাজা যুদ্ধ কি এবার আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেবে? ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের ২৫ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত ইসরাইলের নাগরিকদের ওপর এ জরিপ করে আইডিআই। জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৮৫ শতাংশ ইসরাইলি নাগরিক ইসরাইল-হামাস সংঘর্ষ শেষ হওয়ার পর নেতনিয়াহুকে তাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় না। এছাড়া ইসরাইলের বিতর্কিত বিচারিক ব্যবস্থার সংস্কার বাতিল করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। বিতর্কিত এই সংস্কারের পরিকল্পনা গত বছর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে ইসরাইলজুড়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত করে। তারই ধারাবাহিকতায় দিন দিন ইসরাইলের নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি আরও জোড়ালো হচ্ছে। গাজায় হামলা নিয়ে ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তার কথা সামনে আনলেও উপত্যকাটিতে সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ, নৈরাজ্য বা দখলদারিত্ব ইসরাইলের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবেই দেখতে হবে। ইসরাইলের সম্ভ্যব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক পরিকল্পনা অপরিহার্য, কিন্তু এই উপলব্ধি নেতানিয়াহু উপেক্ষা করছেন বলেই মনে হচ্ছে।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply