মেহেরপুর জামায়াত ইসলামীর নেতা তারেক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের সহকারী পরিচালক ফাতেহ মোহাম্মদ ইফতেখারুল আলম মেহেরপুরে এসেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি স্থানীয় সাংবাদিক, আইনজীবী, পুলিশ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ২০ জনের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ঘটনার আগে ও পরের নানা তথ্য সংগ্রহ করেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি দুপুরে মেহেরপুর ইসলামী ব্যাংকের সামনে থেকে তারেক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে তুলে নেওয়া হয়। পরে ওই দিন রাতেই সদর উপজেলার বন্দর এলাকায় ক্রসফায়ারের নামে তাকে হত্যা করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ ঘটনায় তৎকালীন মেহেরপুরের পুলিশ সুপার নাহিদুল ইসলামসহ ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশে হস্তান্তর করা হয়।আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রট আদালতের বিচারক শারমীন নাহার মামলাটি আমলে নিয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশকে সরাসরি এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আসামিরা হলেন- তৎকালীন পুলিশ সুপার একেএম নাহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শেখ মোস্তাফিজুর রহমান, এএসপি সার্কেল আব্দুল জলিল, মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট সাঈদ মোমিন মজুমদার, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ হোসেন, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৬) গাংনী ক্যাম্প কমান্ডার আশরাফ হোসেন, একই ক্যাম্পের ডিএডি জাহাঙ্গীর আলম, বিজিবি ৩২ ব্যাটালিয়নের বুড়িপোতা ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আসাদ মিয়া, মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আক্তার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজুল ইসলাম, তদন্ত অফিসার তরিকুল ইসলাম, সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হান্নান, ডিবির কনস্টেবল সাধন কুমার, কনস্টেবল নারদ কুমার, কনস্টেবল জিল্লুর রহমান, সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রসুল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন ও আওয়ামী লীগের নেতা সাবেক মেম্বার দরদ আলী। মামলার এজাহারে জানা গেছে, ১ থেকে ১৫ নম্বর আসামিরা বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ( র্যাব), বিজিবি ও প্রশাসনে কর্মরত ব্যক্তি। ১৬- থেকে ১৯ নম্বর আসামিরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় নেতা ও ক্যাডার। ১ থেকে ১৫ আসামি তৎকালীন সময়ে সরকারের পুলিশ বিভাগে কর্মকর্তা/কর্মচারী হিসেবে কর্মরত থাকলেও ১৬ থেকে ১৯ নম্বর আসামির আজ্ঞাবহ হিসেবে পরিচালিত হতো। মামলার এজাহারে আরও জানা গেছে, ২০১৪ সালে তারিক মো. সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর জেলার সহকারী সেক্রেটারি ছিলেন। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা থাকায় ভিন্ন মতের নেতৃত্বকে সমূলে বিনাশের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে। ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি দুপুরে ব্যক্তিগত কাজে তারিক মো. সাইফুল ইসলাম মেহেরপুর শহরের হোটেল বাজার ইসলামি ব্যাংকের কাছে গেলে আসামি বারিকুল ইসলাম লিজন ও দরুদ আলী সঙ্গে সঙ্গে সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম রসুলকে জানান। পরে সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সুপারিশে তৎকালীন পুলিশ সুপার কে এম নাহিদুল ইসলামের নির্দেশে মামলার অন্যান্য আসামিরা তারিককে আটক করে। তাৎক্ষণিক সাংবাদিকরা জানতে পেরে তৎকালীন পুলিশ সুপার একেএম নাহিদুল ইসলামের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে, নিহত তারিকের স্ত্রী তার স্বামীর সন্ধানে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গেলে পুলিশ সুপার আটকের বিষয়ে অস্বীকার করেন। আটকের পর গোপন স্থানে রেখে তারিককে নিষ্ঠুরভাবে শারীরিক ও মানসিক নিযার্তন করে আসামিরা। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরতলি বামনপাড়া শ্মশান ঘাট এলাকায় কথিত বন্ধুকযুদ্ধের নামে একাধিক গুলি করে হত্যা করে। পরদিন সকালে মেহেরপুর মর্গে থেকে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবারের কাছে দেয়নি এই আসামিরা। শুধু কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি নিহত তারিকের নামে বিস্ফোরক, নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে ৯টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এছাড়াও তারেকের পরিবারকে মামলা না করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। ১৯ জানুয়ারি ২০১৪ প্রথম আলো হুবুহু সংবাদ দেয়া হলো মেহেরপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল তারেক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (৩৬) পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার বিকেলে সদর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মেহেরপুর ইসলামী ব্যাংক প্রধান কার্যালয় ভবন থেকে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করে। মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজুল ইসলাম দাবি করেন, আজ ভোর চারটার দিকে সাইফুলকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তারে সদর উপজেলার বন্দর শ্মশানঘাট এলাকায় যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সাইফুলের সমর্থকদের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। একপর্যায়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে কিছু গুলি ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সাইফুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, জেলা জামায়াতের আমির ছমির উদ্দিনের জ্যেষ্ঠ ছেলে সাইফুল। পরিবার ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে। মেহেরপুর সদর থানার ওসি রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাইফুলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় নয়টি মামলা হয়। স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, এক বছর আগে শহরে জামায়াত-শিবির তাণ্ডব চালায়। এরপর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা জেলা জামায়াতের আমির ছমির উদ্দিনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই ঘটনার পর তিনি বিদেশে পালিয়ে গেলে তাঁর ছেলে সাইফুলকে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গোয়েন্দা পুলিশ দাবি করেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনগর, বন্দর, কাথুলী মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে গাছ কেটে সড়ক অবরোধ, বোমা বিস্ফোরণ এবং পুলিশ-বিজিবির ওপর হামলা হয়। এ ঘটনার পর সাইফুল গা ঢাকা দেন। গ্রন্থনা:অধ্যক্ষ মহসীন আলী আঙ্গুঁর ,সম্পাদক ও প্রকাশক, মুজিবনগর খবর ডট কম,মেহেরপুর।
Slider
দেশ
মেহেরপুর জেলা খবর
মেহেরপুর সদর উপজেলা
গাংনী উপজেলা
মুজিবনগর উপজেলা
ফিচার
খেলা
যাবতীয়
ছবি
ফেসবুকে মুজিবনগর খবর
Home
»
English News
»
lid news
»
national
»
politics
»
world
»
Zilla News
» জামায়াত নেতা তারেক হত্যা তদন্তে মেহেরপুরে ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা
Mujibnagar Khabor's Admin
We are.., This is a short description in the author block about the author. You edit it by entering text in the "Biographical Info" field in the user admin panel.
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
Labels
- Advertisemen
- Advertisement
- Advertisementvideos
- Arts
- Education
- English News
- English News Featured
- English News lid news
- English News national
- English News news
- English Newsn
- Entertainment
- Featured
- games
- id news
- l
- l national
- li
- lid news
- lid news English News
- lid news others
- media
- national
- others
- pedia
- photos
- politics
- politics English News
- t
- videos
- w
- world
- Zilla News

No comments: