Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » মিশেল ব্যাচেলেটের বাংলাদেশ সফর ও মানবাধিকার রাজনীতি




বাংলাদেশ নিয়ে ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের সব অভিযোগ সত্য কি না, তা যাচাইয়ের প্রশ্নের জবাব সরাসরি না-দিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব অভিযোগই খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি অভিযোগের তদন্ত প্রয়োজন। এমনকি মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর নিবন্ধন বাতিল নিয়ে আল-জাজিরার সাংবাদিকের প্রশ্নেরও কোনো জবাব মেলেনি তার কাছ থেকে। বুধবার (১৭ আগস্ট) মিশেল ব্যাচেলেটের চার দিনের বাংলাদেশ সফর শেষ হয়। এদিন রাজধানী ঢাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্তের উপদেশের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও সবক দিলেন মিশেল ব্যাচেলেট। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে কারো বক্তব্যে তিনি সন্তুষ্ট হতে আসেননি। বর্তমান শতাব্দীর ইতিহাসে মানবাধিবার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর একটি রোহিঙ্গা নির্যাতন। নিজ দেশে নিপীড়ন ও গণহত্যার শিকার হয়ে বাস্তুচ্যুত লাখ লাখ মানুষ আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। যদিও ২০১৭ সালের পর পাঁচ বছরে এ নিয়ে জোরালো কোনো বক্তব্য ছিল না জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের। এমনকি কক্সবাজারের উখিয়ায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনসহ নানান বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য তাদের একটু ধৈর্যধারণের আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ সফরে অভ্যন্তরীণ নানা ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন মহলে অব্যাহত সংলাপ করলেও রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে শেষ দিনে দিলেন গৎবাঁধা বক্তব্য। মিশেল ব্যাচেলেট লিখিত বক্তব্য এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নে বারবার উঠে এসেছে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সত্যতার প্রশ্ন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। দেশের সব রাজনৈতিক দলকে একত্রে বসে জাতীয় সংলাপের পরামর্শ তার। যদিও তিনি জানান, মানবাধিকার লঙ্ঘনের যেকোনো অভিযোগের তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিশেল ব্যাচেলেট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। রোববার (১৪ আগস্ট) জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। এরই মধ্যে মানবাধিকার প্রচার ও সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন সংলাপে অংশ নিয়েছেন তিনি। রোববার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। আমাকে বিচার চাইতেও বাধা দেয়া হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ সামরিক শাসনামলে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন প্রত্যক্ষ করেছে বাংলাদেশ। ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করতে তখনকার সেনাসমর্থিত সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। ওই অধ্যাদেশের কারণে বিচার চাইতে বাধা দেয়া হয়েছিল। ব্যাচেলেটের সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের পর জাতির পিতার খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক শাসনের বেড়াজাল থাকায় দীর্ঘসময় জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। বুধবার গণভবনে ব্যাচেলেটের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এমন কথা বলেন। সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে ১৯৭৫-এর পর দীর্ঘসময় দেশে সামরিক শাসন থাকায় মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের ধৈর্য ধরতে বললেন মিশেল ব্যাচেলেট শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৃশংসতার সময় আমি ও আমার ছোট বোন শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যাই। ওরা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল বলে আমরা যখন দেশে ফিরে আসি, তখন বিচারও চাইতে পারিনি।’ সৌজন্য সাক্ষাতে পঁচাত্তরের পর জাতির পিতার খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বৈঠকে চিলির দুবারের সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচেলেট জানান, তার দেশে যখন নিপীড়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল, সে সময় তার পরিবারকেও বিভিন্ন সময়ে একই রকম অমানবিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ব্যাচেলেট বলেন, ‘আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।’ তিনি জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তারা বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণও দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা জানান, তিনি সেটি (জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের পর্যবেক্ষণ) পেয়েছেন। ব্যাচেলেটকে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের একটা পরিকল্পনা রয়েছে–সন্ত্রাসবাদ আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে আমরা প্রশ্রয় দেব না।’ অধিকার ও আদিলুর রহমানের ষড়যন্ত্র থেমে নেই বুধবার ব্যাচেলেটের সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার-এর প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। সংস্থাটির সম্পাদক আদিলুর রহমান খান শুভ্র বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনামলে ছিলেন পদস্থ আইন কর্মকর্তা—ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি হয়তো অ্যাটর্নি জেনারেল হয়ে যেতেন। বিএনপিকর্মী থেকে তিনি এখন মানবাধিকারকর্মী হয়ে গেছেন। মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব নিয়ন্ত্রণকালে নিহতের ভুল তথ্য দিয়ে আলোচনায় আসে অধিকার। আর্থিক অনিয়ম, তথ্য দিয়ে সহযোগিতা না-করা ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করায় সম্প্রতি এনজিও ব্যুরো সংস্থাটির নিবন্ধন বাতিল করে দিয়েছে। আদিলুর রহমান খানের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের মতিঝিল সমাবেশে অভিযান নিয়ে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশ ভন্ডুলের যৌথ অভিযানে ৬১ জন নিহত হয় বলে দাবি করেছিল অধিকার। সেই রাতের অভিযানে কোনো প্রাণহানি হয়নি বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাদের তদন্তে অধিকার-এর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অধিকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর অভিযানে ৬১ জন নিহত হওয়ার যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তা অসত্য এবং বিকৃত। এ অভিযোগে আদিলুর রহমানকে তখন গ্রেফতার করা হয়েছিল। অধিকার-এর বিষয়ে দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন এবং কোন প্রক্রিয়ায় তদন্তটি হয়েছে, সে সম্পর্কে গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, রাতের ছবিকে তারা দিনের ছবি করেছে। বিভিন্ন জায়গায় মরদেহ দেখিয়েছে। এসব নিয়েই তারা তদন্ত করেছেন। পুলিশ বলেছে, অধিকার যে ৬১ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে, সেই তালিকা জব্দ করা কম্পিউটার থেকে পাওয়া গেছে। এ তালিকা নিয়ে তদন্তে দেখা গেছে, পাঁচজনের নাম দুবার করে এসেছে। চারজন নারায়ণগঞ্জ এবং দুজন চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পরের দিন গন্ডগোলে মারা গেছেন। একজন হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। নাম আছে ঠিকানা নাই ১১ জনের। নাম এবং ঠিকানা ভুয়া সাতজনের। ১০ ক্রমিকে কারো নাম উল্লেখ নেই। এ ছাড়া চারজন জীবিত আছেন, তাদের মধ্যে কেউ জেলখানায়, কেউ মাদরাসায়, আবার কেউ চাকরি করছেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ৬১ জনের মধ্যে এ হিসাবে ৩৫ জনের নাম বাদ দিলে যে ২৬ জন থাকে, তারা মারা গেছেন ঠিকই; কিন্তু শাপলা চত্বরের পুলিশের অভিযানে মারা যাওয়ার কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর এই ২৬ জনের মধ্যে অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মী, অফিস কর্মচারী, পথচারী ও পরিবহন শ্রমিক রয়েছেন। এ তালিকার ১ নম্বরে সিদ্দিকুর রহমান নামে একজনের নাম উল্লেখ রয়েছে। অথচ সিদ্দিক পুলিশের রিকুইজিশন করা গাড়িচালক। ৫ মে দুপুরে বায়তুল মোকাররম এলাকায় হেফাজতে ইসলামের হামলায় মারা যান তিনি। অধিকারের প্রতিবেদনে এসব উল্লেখ করা হয়নি। তা ছাড়া ৫ মে হেফাজতে ইসলামের হামলার শিকার হয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা মারা গেলেও অধিকারের তালিকায় তার নাম নেই। অধিকারের প্রতিবেদন ছিল একপেশে। কেননা, হেফাজত কর্মীরা ৫ মে দিনব্যাপী যে তাণ্ডব চালিয়েছে, প্রতিবেদনে তার কোনো বর্ণনাই নেই। ২০১৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অধিকারের সেক্রেটারি আদিলুর ও পরিচালক নাসিরুদ্দিন এলানের বিরুদ্ধে আদালতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করা হয়। এতে বলা হয়, সাধারণ ডায়েরিতে তাদের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতি করা, মতিঝিল অভিযান নিয়ে অসত্য তথ্য উপস্থাপন, ফটোশপের মাধ্যমে ছবি বিকৃত করে অধিকারের প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা এবং জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর মতো যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক ছিল। যুদ্ধাপরাধের দোসর ডেভিড বার্গম্যানের ইতিহাস সোমবার মিশেল ব্যাচেলেটের সঙ্গে বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, দেশ উন্নতি করছে, ডেভিড বার্গম্যানের সেটা পছন্দ নয়। তাই তারা গুম-খুনের অভিযোগ করছে। অভিযোগ রয়েছে, ডেভিড বার্গম্যান টাকা নিয়ে এসব কাজ করছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময়ও তিনি বিচারের বিপক্ষে কাজ করেছেন। এদিকে বাংলাদেশের ২০টির বেশি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মিশেল ব্যাচেলেট। সোমবার সকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে গণমাধ্যমের কোনো আমন্ত্রণ কিংবা প্রবেশের অনুমতি ছিল না এ বৈঠকে। রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে ২০টির বেশি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। তবে হাইকমিশনারের সফরসূচিতে এ বৈঠকটি নির্ধারিত ছিল না। খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা বৈঠকস্থলে গেলেও প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। বৈঠকে আরও অনেকের সঙ্গে অংশ নেন আইনজীবী সারা হোসেন। যিনি ডেভিড বার্গম্যানের স্ত্রী ও ড. কামাল হোসেনের মেয়ে। আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, ‘এখানে যারা আমরা বাংলাদেশি মানবাধিকার বা আইন সহায়তা নিয়ে কাজ করছি, আমাদের কথাগুলো তুলে ধরেছি।’ এর আগে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ‘অল প্রাইম মিনিস্টারস ম্যান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনের ভিডিওতে যাদের মুখ্য ভূমিকায় দেখা গেছে, তাদের মধ্য অন্যতম একজন হলেন যুদ্ধাপরাধীদের এজেন্ট এবং তারেক রহমানের বেতনভুক্ত উপদেষ্টা ডেভিড বার্গম্যান। যিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের মধ্যে অন্যতম ড. কামাল হোসেনের জামাতা। ডেভিড বার্গম্যান হলেন সেই লোক, যিনি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সাংবাদিকতা করেন এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করাই যার মূল লক্ষ্য। বার্গম্যান মূলত নিজেকে পরিচয় দেন একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক হিসেবে, যিনি অনেক বছর বাংলাদেশ অবস্থান করেছেন এবং একটা বিশেষ শ্রেণির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি জড়িতদের বিচারের বিরোধিতা করে নিজের ব্লগে লেখালিখি করে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যাসহ সব ধরনের অপকর্মে সম্পৃক্তদের বিচার শুরু হলে তা নিয়ে নেতিবাচক লেখালিখিও করেন বার্গম্যান। তার লেখার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা। অধিকাংশ লেখাতেই তিনি শুধু সেসব মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন, যারা বিএনপি এবং জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আর এটা সবাই জানে, মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রধান সহযোগী, যাদের সহযোগিতায় পাকিস্তানিরা এ দেশে গণহত্যাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে। নিজের লেখা এক ব্লগে বার্গম্যান এটাও দাবি করেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আসলে ৩০ লাখ মানুষ শহিদ হননি। তার দাবি, এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ লাখ! কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বার্গম্যানের এ দাবির তুলনায় শহিদের সংখ্যা ছিল ১০ গুণ। এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন, মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই স্বাধীনতাবিরোধী চক্রটি শহিদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এ চক্রটি নিজেদের ঘৃণ্য অপরাধ ঢাকার জন্য শুরু থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে শহীদের সংখ্যা কমিয়ে বলার চেষ্টা করে আসছে। ডেভিড বার্গম্যান তাদের হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এবং সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি বিচারাধীন বিষয়ে উসকানি ছড়ানোর দায়ে একপর্যায়ে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ইতিহাস বিকৃতির দায়ে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে অভিযুক্ত করেন। সোজা কথায়, আমরা যদি এই স্বঘোষিত অনুসন্ধানী সাংবাদিক বার্গম্যানকে চিহ্নিত করতে চাই, তাহলে তাকে একজন ফড়িয়া বা দালাল বলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। শুনতে বেখাপ্পা লাগলেও এটিই সত্য। নির্মম বাস্তব এটাই, বার্গম্যান মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে একটি বিশেষ শ্রেণির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। তার লেখার অন্যতম বিষয়গুলো হলো: বাংলাদেশর প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে আক্রমণ করা এবং দেশের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীকে নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো। বর্তমানে নেত্রনিউজ নামের একটি সংবাদমাধ্যম খুলে বাংলাদেশ সরকার, প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত এই বার্গম্যান। বার্গম্যানের কর্মজীবন আসলে কেমন? এই তথাকথিত সাংবাদিক নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করলেও তার ব্যক্তি ও পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে জানা প্রাসঙ্গিক। তিনি ড. কামাল হোসেনের জামাতা। আর এই ড. কামাল হলেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় জোট বিএনপি-জামায়াতের প্রধান সমন্বয়ক। এ কারণেই বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে দীর্ঘসময় লেখালিখি করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন বার্গম্যান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আক্রমণাত্মক প্রচারণার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে লবিংয়ের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করা হয়েছে, বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও লন্ডনে, এসবের সঙ্গেও তিনি জড়িত। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জামায়াত নেতা মীর কাসেম, যুদ্ধাপরাধের দায়ে যার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, নিজেকে বাঁচানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ম্যানেজ করতেই ২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন। এই বার্গম্যানের রাজনৈতিক যোগাযোগ এতটাই ঘনিষ্ঠ যে, তা চাইলেও অস্বীকার করার উপায় নেই। এমনকি লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের সঙ্গেও তাকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে থাকাবস্থায় অপেশাদার ও ঔদ্ধত্য আচরণের জন্য দ্য নিউ এজ পত্রিকা এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে ডেভিড বার্গম্যানকে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার এথিক্সের তোয়াক্কা না করার অভিযোগ ছিল। শুধু এ কারণেই মূলধারার গণমাধ্যমে অযোগ্য হয়ে পড়েন তিনি। কী চান বার্গম্যান? বার্গম্যান প্রবাসে থাকা কিছু দেশবিরোধী ব্যক্তির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন, যারা বিএনপি-জামায়াতের আরও ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ চালাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিত বানোয়াট সংবাদ তৈরি করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে অপপ্রচার চালান। তারেক-এস কে সিনহা-ড. কামালকে একত্র করা হয় যেভাবে অর্থ পাচার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা-ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ডেভিড বার্গম্যানের সহায়তায় ড. কামালের সঙ্গে সরকারবিরোধী জোট গড়ে তোলেন। ড. কামাল হোসেনের জামাতা বার্গম্যান মূলত সরকারবিরোধীদের একই প্ল্যাটফর্মে আনার জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত যে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে, সেই সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে বসে তারেক রহমান ও ড. কামালদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং অসাংবিধানিকভাবে সরকার পরিবর্তনের জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটের হয়ে কাজ করছেন। ডেভিড বার্গম্যানই ড. কামাল, তারেক রহমান ও এস কে সিনহার মধ্যে লিয়াজোঁ হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু এই ত্রয়ীর বিভিন্ন অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন তারা ভিন্ন আঙ্গিকে বিভিন্ন পাবলিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশের প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবার ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে মিথ্যা-বানোয়াট গুজব ছড়াচ্ছে।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply