Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » ইমরান খানের নাজেহাল জেনারেলদের জন্য হতে পারে বুমেরাং




পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়ছেই। একটি সমাবেশে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে তিনি হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপরেই তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা করা হয়। যদিও এই মামলা নিয়ে তিনি নিজ থেকে কোনো সাড়া দেননি। সোমবার লাহোর হাইকোর্টে তার আগাম জামিন আবেদন করেছেন আইনজীবী। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেই জামিন মঞ্জুর হয়েছে। জামিন পেলেও এরইমধ্যে আরও দুটি মামলা দায়ের হয়েছে তার বিরুদ্ধে। একটি আদালত অবমাননার ও অন্যটি বেআইনি সমাবেশের। এ মামলা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক এই ক্রিকেট কিংবদন্তির সমর্থকেরা। গত সপ্তাহে ইমরান খানের এক শীর্ষ সহযোগীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন এক নারী বিচারক। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদি আদালত অবমাননায় দোষী সাব্যস্ত হন, তবে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন ইমরান খান। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) পার্টি বলছে, তাদের নেতার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সমাবেশ থেকে দূরে রাখতেই এসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। টাইম, আল-জাজিরা ও ডন এমন খবর দিয়েছে। যা ভাবছেন সাধারণ মানুষ ইমরান খানকে অন্যায়ভাবে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে বলে মনে করেন রাজধানী ইসলামাবাদের বাসিন্দা মোহাম্মদ ওয়াসিম। ২৩ বছর বয়সী এই নরসুন্দর বলেন, বাহিনী ইমরান খানকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছে। তিনি একজন শক্তিশালী নেতা, তাকে কেউ হুকুম দিতে পারবেন না। এখানে বাহিনী বলতে প্রভাবশালী সেনাবাহিনীকে বোঝাতে চাচ্ছেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। দক্ষিণ এশীয় দেশটির ৭৫ বছরের ইতিহাসে অর্ধেকটার বেশি সময় শাসন করেছে সেনাবাহিনী। ওয়াসিম বলেন, নিজের ও দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন ইমরান খান। কিন্তু যারা ক্ষমতায়, তারা তাকে অপছন্দ করেন। তারা কেবল আমেরিকার নির্দেশ মেনে চলেন। ইমরান খান চাচ্ছেন, পাকিস্তান স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিক। পিটিআইপ্রধানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মনে করেন তার সমর্থকেরা। যদিও পাকিস্তান সরকার ও ওয়াশিংটন বরাবর এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পর থেকে ‘নতুন নির্বাচনের’ দাবিতে একের পর এক সমাবেশ ডাকছেন ইমরান খান। এসব সমাবেশ নিয়মিতই অংশ নেন ইসলামাবাদের কলেজ শিক্ষক নিলুফার রাজা। তিনি মনে করেন, মামলা দিয়ে ইমরান খানকে খেপাতে চায় না সরকার। কিন্তু পিছন থেকে কেউ কলকাঠি নেড়ে মামলা দিতে বাধ্য করছে। তার অভিযোগ, সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ইমরান খানকে দাঁড় করাতেই এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা তা ঘটতে দেব না, ইমরান খানের জন্য জীবন বিলিয়ে দেব দরকার হলে। ইমরান খানের বিরুদ্ধে মামলা কেন? চলতি বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানের প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এরপর থেকে সরকারবিরোধী সমালোচনা ও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন তিনি। তার সমাবেশগুলোতে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিচ্ছেন স্বতঃস্ফূর্তভাবে। জনমানুষের কাছে পৌঁছাতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে ইমরান খানকে। সভা-সমাবেশগুলোতে রাজনৈতিকবিরোধী, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, পুলিশ বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তিনি আগুনঝরা বক্তৃতা দিয়ে আসছেন। সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে নিজের পছন্দমতো মন্তব্য ছুড়ছেন ইমরান খান। সেনাবাহিনীকে তিনি নিরপেক্ষ থাকতে ও বর্তমান সরকারের পক্ষ না-নিতে অনুরোধ করেন। তার মতে, পাকিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট চোর ও দুর্নীতিবাজ। রোববার রাতে রাওয়ালপিন্ডিতে দেয়া এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, ২৫ মে পুলিশ যখন আমাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালাচ্ছিল, তখন বাহিনীর ভেতরের লোকজন আমাদের জানিয়েছে যে উপরের নির্দেশে তারা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে, তারা সামরিক বাহিনীর নির্দেশে পিটিআইকর্মীদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। এ সময়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসিপি) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, কমিশনের প্রতিটি ভূমিকা পিটিআইয়ের বিরুদ্ধে। এমনকি নির্বাচনের কমিশনের প্রধান রাজনৈতিক চাপে নত হচ্ছেন। পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা অনেকটা পরিহাসমূলক। কারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইমরান খানের সফলতার পেছনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা অগ্রগণ্য। কিন্তু এখন সেই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেই তিনি একে একে তোপ দেগে যাচ্ছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও রাজনৈতিক নিপীড়ন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অ্যাডভোকেসি পরিচালক জন শিফটন বলেন, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অতিমাত্রায় বিস্তৃত। অর্থাৎ আইনটিতে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা নেই। ভাষা অস্পষ্ট। রাজনৈতিক বক্তব্যের লাগাম টানতে অতীতে আইনটির ব্যবহার হয়েছে। তিনি জানান, যদি কর্তৃপক্ষ মনে করেন যে ইমরান খানের বক্তব্য সহিংসতায় উসকানি দিয়েছে কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বাস্তবিক হুমকি তৈরি করেছে, তবে তাকে সাজা দিতে আরও আইন আছে। ইমরান খানের বিরুদ্ধে মামলার যোগ্যতা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নেই বলে মনে করেন লাহোরভিত্তিক আইনজীবী ও বিশ্লেষক আসাদ রহিম খান। কিন্তু তিনি এও বলেন, শনিবার দেয়া ইমরান খানের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা তার বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখছেন, তাদের ছাড় না-দেয়ার আভাসও দেন তিনি। তার বক্তব্যের সুর ছিল যুদ্ধংদেহী। তাই বলে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা তাকে রাজনৈতিক নিপীড়নের নোংরা চেষ্টা ছাড়া আর কিছু না বলে মনে করেন এই আইনজীবী। সামনে যা ঘটতে পারে? ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ হায়দার রাসুল বলেন, বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরা দিতে হবে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে। কেবল আইনগত যোগ্যতা দিয়েই মামলা খারিজ হবে না, ইমরান খানকে সশরীরে আদালতে হাজির হতে হবে, জামিন আবেদন দাখিল করতে হবে। এতে সম্ভবত আরও কয়েকদিন তিনি জামিনে থাকতে পারছেন। আদালত তার জামিন আবেদন খারিজ করে দিলেই তিনি গ্রেফতার হতে পারেন। কিন্তু তিনি গ্রেফতার হবেন বলে মনে হচ্ছে না। তিনি কারাগারে গেলে তা চলমান উত্তেজনায় আরও ইন্ধন যোগাবে। কারণ তাকে ক্ষমতাচ্যুতির ঘটনায় বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এরপর তাকে গ্রেফতার করা হলে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা তীব্র রূপ নেবে। এতে অর্থনৈতিকভাবে পাকিস্তানে ভয়ানক অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি করবে। ইমরান খানকে গ্রেফতার করলে কী হবে? পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে সরিয়ে দেয়ার আগেই বিরোধীদের প্রতি তিনি বাক্যবাণ ছুড়তে শুরু করেন। এপ্রিলের অনাস্থা ভোটের কয়েক সপ্তাহ আগে বিশাল বিশাল সমাবেশের আয়োজন করেন ইমরান খান। তাতে বিপুল মানুষ অংশ নেয়। তখনই মার্কিন নেতৃত্বাধীন ষড়যন্ত্রের ধুয়া তুলছেন তিনি। ইমরান খানের সেই জনসমাবেশের আকার এখন এসে দিনে দিনে আরও বড় হচ্ছে। আর সম্প্রতি অবিরত সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজের তিক্ত ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন সাবেক এই ক্রিকেট কিংবদন্তি। তাকে কারাগারে নেয়া হলে রাজধানী ইসলামাবাদ অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন তার সমর্থকেরা। উডরো উইলসন সেন্টারের এশীয় কর্মসূচি বিষয়ক উপ-পরিচালক মাইকেল ক্লুগম্যান বলেন, যদি ইমরানকে সত্যিকারভাবে গ্রেফতার করা হয়, তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে; তা বলা যাচ্ছে না। ইমরান খানের বিপুল সমর্থক। তিনি কারাগারে গেলে তারা বসে থাকবেন না। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বিতর্কের শুরু যেভাবে চলতি মাসের শুরুতে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ইমরান খানের বিশেষ সহযোগী শাহবাজ গিল এক টেলিভিশন টকশোতে বলেন, সামরিক নেতারা যদি কোনো অন্যায় আদেশ দেন, তবে সেনারা যাতে তা বাস্তবায়নে অস্বীকার করেন। এরপরেই তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করা হয়েছে। জেরা করার সময় তাকে নির্যাতনও করা হয়। পাকিস্তানের রাষ্ট্রদ্রোহের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড। শাহবাজ গিলকে গ্রেফতার করা হলে তার সমর্থনে এগিয়ে আসেন ইমরান খান। আরও পড়ুন: ইমরান খান-সরকারের লড়াইয়ে অনিশ্চয়তায় পাকিস্তান পুলিশের মহাপরিদর্শক ও বিচারককের সমালোচনা করেন তিনি। তাদের উদ্দেশ্য করে পিটিআইপ্রধান বলেন, আপনারাও একই পরিণতির জন্য প্রস্তুত হোন। আপনাদের বিরুদ্ধে আমরা পদক্ষেপ নেব। আপনাদের পরিণতি হবে লজ্জাজনক। ইমরান খানের এই বক্তব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ ও বিচারক। এমনকি তার বক্তব্য টেলিভিশনে সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। শাহবাজ গিল যে টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নেন, সেটির সম্প্রচার বন্ধ। সরকারের নিপীড়নের ভয়ে টকশোর দুই উপস্থাপক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। যদিও এসব নিষেধাজ্ঞায় খুব একটা ফল আসবে বলে মনে হচ্ছে না। টুইটারে এক কোটি ৭০ লাখ অনুসারী ইমরান খানের। পাকিস্তানের অনেক বড় বড় সংবাদ শোয়ের চেয়ে এই ফলোয়ারের সংখ্যা অনেক বেশি। রাওয়ালপিন্ডিতে ইমরান খানের বক্তব্যের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করতে ইউটিউবে বিভ্রাট তৈরি করা হয়েছে। এ সময়টায় ইউটিউবে ঢুকতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে লোকজনকে। সংকটের পর সংকট সম্প্রতি ধারাবাহিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান। আর এর প্রভাব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতিতে পাকিস্তানের মানুষ দিশেহারা—জুলাইয়ে যা ২৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছায়। অর্থনীতিকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যেতে পারেনি ক্ষমতাসীন সরকার। বরং বিরোধীদের ওপর কঠোর দমনাভিযান চালাচ্ছে। যে অর্থনৈতিক অব্যবস্থানার অভিযোগ তুলে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী হয়ে সেখান থেকে দেশকে বের করে আনা তো দূরের কথা, ন্যূনতম উন্নতি করতে পারেননি। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের নিত্যজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিকে অর্থছাড় দিতে ২৯ আগস্ট বৈঠকে বসতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। কিন্তু অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার গতি এতোই দ্রুত যে সেখান থেকে উঠে আসা কঠিন হয়ে পড়বে। মাইকেল ক্লুগম্যান বলেন, বিষয়টি আপনি যেভাবেই নেন না কেন; পাকিস্তানের জন্য এটি অস্থির ও অস্বস্তিকর মুহূর্ত। সরকারের উদাসীনতা দেশটিতে বিভিন্ন সংকটের সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কিন্তু বিপর্যস্তদের প্রতি সরকারের উদাসীনতায় বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ। পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডনে সাংবাদিক ও গ্রন্থকার জাহিদ হুসেনে লিখেছেন, মুষলধারে বৃষ্টিতে দেশের বড় অংশ যখন বিপর্যস্ত, তখন মসনদ দখলের বিপজ্জনক খেলায় মেতেছেন রাজনীতিবিদরা। এর চেয়ে অবাস্তব কিংবা অদ্ভুত ঘটনা আর হতে পারে না। আকস্মিক বন্যায় গ্রামের পর গ্রাম ডুবে গেছে। শিশুসহ শত শত মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। কিন্তু তাতে বাস্তবিক কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। বেলুচিস্তানের একটি ছবিতে পুরো দুর্দশা উঠে এসেছে। সেখানে শিশুসন্তান হাতের ওপর নিয়ে ডুবে যাওয়া মাঠে ভাঙা-মাটির ঘরের ওপর হতাশভাবে দাঁড়িয়েছেন খ্যাতিমান লোক সঙ্গীতশিল্পী ওয়াহাব বুগতি। ফেসবুকে ছবিটি বেশ নাড়া দিয়েছে। বন্যার প্রলয়ে প্রদেশটির মানুষ কেমন আছেন, তা বুঝতে এক ছবিই যথেষ্ট। জাহিদ হুসেন বলেন, বন্যা ও বৃষ্টিতে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য লুকানো হয়েছে। কিন্তু যে ক্ষতি হয়েছে, তা সংখ্যায় হিসাব করে শেষ হবে না। আক্রান্তরা সরকারের তরফে কোনো সহায়তা পাননি। আর রাজনৈতিক দলগুলো মসনদ দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত। ওয়াহাব বুগতিসহ লাখ লাখ বন্যার্তদের বৈরী আবহাওয়ার দয়ার ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। দুর্যোগকবলিত মানুষদের প্রতি রাজনীতিবিদদের এই উদাসীনতা অপরাধ ছাড়া কিছু না। শাহবাজের জনসমর্থনে ধস ক্ষমতাসীন সরকারের জনপ্রিয়তায় মারাত্মক ধস দেখা গেছে পাঞ্জাবের প্রাদেশিক নির্বাচনে। গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশটিতে ভূমিধস বিজয় পেয়েছে ইমরান খানের দল। ক্ষমতাসীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজকে পরাজিত করেন তারা। অথচ এই নির্বাচনে জয়ী হওয়া শাহবাজ শরিফের জন্য সহজ হবে বলেই ধরে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পাঞ্জাবের কুড়িটি আসনের মধ্যে ১৫টিতে জয়ী পিটিআই। জুলাইয়ের এই বিজয়কে ব্যালটবক্সে ইমরান খানের জনপ্রিয়তা এখনো বহাল তবিয়তে থাকার বিষয়টিই সামনে নিয়ে এসেছে। অথচ এতদিন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের ভোটব্যাংক হিসেবে ধরা হতো পাঞ্জাবকে। এবারের নির্বাচনে দলটি পাকিস্তানের সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশটিতে মাত্র চারটি আসন পেয়েছে। একটি পেয়েছে স্বতন্ত্রপ্রার্থী। এর মধ্য দিয়ে পাঞ্জাবে শাহবাজের ছেলে হামজা শরিফের স্বল্প-সময়ের মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নির্বাচনের এই ফল শাহবাজ শরিফের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ তার নাজুক জোট সরকারের ভাগ্য সুতোয় ঝুলে আছে। সরকার আগাম নির্বাচনে গেলে কী ফল আসবে—পাঞ্জাবেই তা দেখা গেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে নিজের ক্যারিশমা দেখিয়েছিলেন ইমরান খান। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তিনি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। পার্লামেন্টে তার এমপিরা দল থেকে সরে যাওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন। সামরিক বাহিনী কী কোনো পদক্ষেপ নেবে? যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। তবুও তারা পরস্পরের অমূল্য নিরাপত্তা অংশীদার। বিশেষ করে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায়। নিজেদের ইতিহাসে দীর্ঘতম যুদ্ধটি শেষে গেল বছর আফগান ছেড়েছে মার্কিন সেনারা। কিন্তু পাকিস্তানকে যেভাবে অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরেছে, তাতে ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটনের অবিচ্ছেদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কেও প্রভাব পড়ছে। সামরিক বাহিনীতে ইমরানপন্থী ও বিরোধীদের মধ্যেও দ্বন্দ্বের খবর আসছে। গেল ১০ আগস্ট পাকিস্তানি তালেবান জানায়, তারা দেশের উত্তরের সোয়াত জেলার একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এখন যদি দেশটির সামরিক বাহিনীতে বিভক্তি দেখা দেয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়, তবে তা ব্যাপক অনিশ্চিত পরিস্থিতির তৈরি করবে। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর মুসলিম স্টেটস অ্যান্ড সোসাইটিজের পরিচালক সামিনা ইয়াসমিন বলেন, ইমরান খানকে খেপিয়ে তুলে পাকিস্তানের মধ্য-ডানপন্থী শাহবাজ শরিফ সরকার ভুল করেছে। এরপর বিরোধীদের ধরপাকড়ের কারণে সেই অস্থিতিশীল অবস্থা লাগামছাড়া বেড়েছে। এটি কোনো সহজ ব্যাপার না; মনে রাখতে হবে পাকিস্তান একটি পরমাণু শক্তিধর দেশ। তিনি আরও বলেন, মুসলিমসংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে বিপুল জনসংখ্যা। সেখানে কোনো সংঘাত দেখা দিলে তা কোথায় গিয়ে থামে বলা যায় না। মজার বিজয় হচ্ছে, সম্প্রতি মার্কিনবিরোধী সুর নরম করেছিলেন ইমরান খান। এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার সম্পর্কের জোড়া লাগার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বক্তব্য জোরদার করছেন পিটিআইপ্রধান। এই বাহিনীকে ‘নিরপেক্ষ’ আখ্যা দিয়ে তিরস্কার করছেন। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না-করার অঙ্গীকার নিয়ে অবিরত মশকরা করছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানকে দীর্ঘসময় শাসন করা সামরিক বাহিনীর প্রভাব এখনো ফুরিয়ে যায়নি। দেশটির রাজনীতি, বিচারবিভাগ ও প্রশাসনে তাদের প্রভাব পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে যে কোনো সময়ে। ইমরান খানের বিরুদ্ধে মামলার পর সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন তার সমর্থকেরা। ক্লুগম্যানের ভাষায়, পিটিআইয়ের সমর্থকেরা যেখানে বাজওয়াকে সম্মান করতেন, এখন তারা তাকে নিয়ে কুৎসা রটিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিকমাধ্যমে তাকে তাচ্ছিল্য করে পোস্ট দিচ্ছেন। বাস্তবতা হলো, সেনাবাহিনীর সমর্থনে ইমরান খান ক্ষমতায় আসেন। আবার একই বাহিনীর বৈরিতায় তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। রাজনৈতিক অস্থিরতায় জেনারেলদের সুনামও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগস্টের শুরুতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় এক শীর্ষ জেনারেলসহ ৬ জ্যেষ্ঠ সেনাকর্মকর্তা নিহত হন। কিন্তু এতে সামাজিকমাধ্যমে যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তা মোটেও ইতিবাচক ছিল না। জেনারেলদের প্রাণহানিতে শোক না-জানিয়ে তামাশা করে হেলিকপ্টারের জন্য সহানভূতি জানায় লোকজন। সামাজিকভাবে পাকিস্তান আগে কখনো এতোটা মেরুকরণ হয়নি। একটি পক্ষ ইমরান খানকে রক্ষাকর্তা ভাবলেও বাকিরা তাকে অশুভ হিসেবে বিবেচনা করছেন। সামিনা ইয়াসমিন বলেন, ইমরান যা করেছেন, তাতে পাকিস্তানে বিভক্তি বেড়েছে। তার আচরণ ছিল অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো। যদি যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের বিভক্তি থেকে এখনো সেরে উঠতে না-পারে, তাহলে পাকিস্তান কীভাবে পারবে? অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে যদি পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়, তবে জেনারেল কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন? এরআগেও অভ্যুত্থানের ইতিহাস আছে পাকিস্তানের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলেই সেনাবাহিনী সরব হয়ে ওঠে। পাকিস্তানে সর্বশেষ সেনাবাহিনী ক্ষমতায় দখল করে ১৯৯৯ সালে। সেনাবাহিনী এখন ছায়ায় থেকে ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কী ভূমিকা রাখবে? সামিনা ইয়াসমিন বলেন, আমার মনে হচ্ছে না, সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিতে যাচ্ছে। তবে অবস্থা খুব খারাপের দিকে গেলে সেনাবাহিনীর কেউ কেউ ক্ষমতা দখলের কথা ভাবতে পারে।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply