Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

রাজনীতি


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার


যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » » ইতালিতে ডানপন্থার উত্থান অভিবাসীদের জন্য কতটা উদ্বেগের




নির্বাচনে বড় জয় নিয়ে ইতালিতে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে একটি কট্টর ডানপন্থী জোট। তবে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ছাড়াও শরণার্থী ও অভিবাসীদের জন্য এটা বেশ উদ্বেগের। গত বেশ কয়েক বছর ধরেই ইউরোপজুড়ে ডানপন্থার উত্থান ঘটছে, যার অবস্থান উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির বিপরীতে। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে মুসলিম, ইহুদি, শরণার্থী-অভিবাসন, বহুত্ববাদ, উদারতাবাদ ও কমিউনিজমের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর, নেতিবাচক ও ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে এর বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করা যায়। যার ফল পরিলক্ষিত হয় পশ্চিমা দেশগুলোর পপুলিস্ট তথা লোকরঞ্জনবাদী রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য-বিবৃতিতে এবং নিশ্চিতভাবেই গণতান্ত্রিক নির্বাচনগুলোতেও। নির্বাচনের মধ্য দিয়েই এই শক্তি ইতোমধ্যে একাধিক দেশে সরকার গঠন করেছে। হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ডের মতো দেশে কট্টর ডানপন্থি সরকার আগে থেকেই ক্ষমতায় রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে ফ্রান্সের সবশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পায় উদারপন্থি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর দল ‘লা রিপাবলিকা এন মার্চ’। তবে মেরিন লা পেনের কট্টর ডানপন্থি দল ভোটের রাজনীতিতে নতুন রেকর্ড গড়ে, যা দেশটির মধ্যপন্থি রাজনীতিকে নাটকীয়ভাবে ডানপন্থার দিকে টেনে নিয়ে গেছে। জার্মানিতে সবশেষ নির্বাচনে বামপন্থি এসপিডি জিতলেও, কট্টর ডানপন্থি দল এএফডি নতুন যুগের সূচনা করেছে। এমনকি দলটি বর্তমান সরকারে অন্যতম বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকে রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে সুইডেনে অভিবাসনবিরোধী দল ‘সুইডেন ডেমোক্র্যাট’ নতুন সরকার গঠন করেছে। মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করা এই দলের রয়েছে নব্য নাৎসিবাদী ইতিহাস। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের মতো গত কয়েক বছর ধরে অনেকটা অগোচরেই ডানপন্থার বিস্তার ঘটেছে ইতালিতেও। অবশেষে গত সপ্তাহের (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় নির্বাচনে তার প্রকাশ দেখল বিশ্ব। এ নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি জোট বিশাল জয় পেয়েছে। যার নেতৃত্বে রয়েছেন জর্জিয়া মেলোনি নামে এক নারী রাজনীতিক। ফলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আগামী চার বছরের জন্য ইতালি শাসন করবেন তিনিই। তার দল ব্রাদার্স অব ইতালি মাত্তিও সালভিনির লীগ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনির ফোরজা ইতালিয়ার সঙ্গে মিলে পেয়েছে মোট ভোটের ৪৪ শতাংশ। যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অর্থাৎ প্রায় গত ৭০ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো ঘটনা। আরও পড়ুন: প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে ইতালি, উৎকণ্ঠায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইউরোপের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে ইতালির রাজনীতির এ পরিবর্তনের প্রভাব হয়তো দেখা যাবে পুরো মহাদেশেই। নির্বাচনের পর নিজের শুভেচ্ছা বক্তব্যে মেলোনি অবশ্য বলেছেন, তার দল ব্রাদার্স অব ইতালি সবার জন্য কাজ করবে। তবে বিশ্লেষকরা ভিন্ন কথাই বলছেন। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দেশটিতে জাতিগত বর্ণবাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন সরকার এমন সব নীতি প্রণয়ন করতে পারে যা ইতালি পৌঁছাতে গিয়ে সাগরপথে আগে যত মানুষের মৃত্যু হতো, সেই মৃত্যুকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। মেলোনির ব্রাদার্স অব ইতালি অতি ডানপন্থী ও বিতর্কিত একটি দল, যার সঙ্গে ইতালির নব্য নাৎসীবাদীদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এবারের নির্বাচনে দলটির প্রধান ইস্যু ছিল অভিবাসন ও অবৈধ অভিবাসন ঠেকানো। নির্বাচনী প্রচারণায় এজন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা। মেলোনির জোটের অন্য দলগুলোও অভিবাসন কমানোর পক্ষে। একই সেঙ্গে দেশটির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রভাব কমানোর পক্ষেও তাদের অবস্থান। অভিবাসন ও অভিবাসীদের ওপর চাপ প্রতিবছর ভূমধ্যসাগর পার হয়ে ও স্থলপথে বহু মানুষ ইতালিতে যান। এদের মধ্যে প্রচুর বাংলাদেশিও রয়েছেন। এই মুহূর্তে দেশটিতে বৈধভাবে কাজ করছেন এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি। এখনও কাজকর্ম ও চাকরির বৈধ কাগজপত্র নেই কিংবা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, এমন বাংলাদেশির সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। ডানপন্থিদের জয়ে রাজধানী রোম ও ভেনিসে কাজ করছেন এমন বাংলাদেশিদের মধ্যে এক ধরনের চাপা উদ্বেগ কাজ করছে। যারা ইতোমধ্যেই কাজ ও বসবাসের বৈধ কাগজপত্র পেয়েছেন তাদের মধ্যে অবশ্য উদ্বেগ কিছুটা কম। কিন্তু যারা এখনও স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাননি তাদের আশঙ্কা, নতুন সরকার অভিবাসন নীতি কঠোর করলে তাদের বৈধতা পেতে সমস্যা হবে। এছাড়া মুসলিমবিরোধী মনোভাবের শিকার হতে পারেন এমন আশঙ্কাও রয়েছে অনেকের মনে। কেউ কেউ অবশ্য মনে করছেন, অভিবাসীদের প্রতি যত কঠোরই হোক, হয়তো তাদের সরাসরি দেশে ফেরত পাঠাবে না এই সরকার। কিন্তু নানা নিয়মকানুন করে তাদের চাপে রাখা হবে। তবে অনেকের আশঙ্কা, নতুন সরকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আইন করবে এবং সেই সঙ্গে অভিবাসনবিরোধী প্রচারণা চালাবে। তাতে সমাজে ‘ইতালীয় বনাম বিদেশি’ এমন একটি বিভাজন তৈরি হবে। অভিবাসীদের জন্য ইতালিতে বেকারত্ব ও অপরাধ বেড়েছে বলে মনে করে থাকেন দেশটির অনেক নাগরিক। এ কারণে নতুন সরকার এসে অনিয়মিত অভিবাসী শ্রমিক ও অপরাধ ঠেকাতে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে অভিবাসীরা নানা হয়রানির শিকার হতে পারেন বলেও শঙ্কা রয়েছে। এছাড়া এসব চাপের কারণে নতুন অভিবাসীদের ইতালিতে প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হতে পারে। সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের প্রবেশ মুখগুলোতে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে। সমুদ্রপথের প্রবেশ মুখগুলোতে রেডক্রসের মতো যেসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে, তাদের কর্মকাণ্ডে দেয়া হতে পারে নিষেধাজ্ঞা। বাংলাদেশিদের মধ্যে চাপা উদ্বেগ ভেনিসের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করেন সাইমুন শরীফ জেসি। দুই বছর আগে ফ্যামিলি ভিসায় স্বামীর সঙ্গে সেখানে যান তিনি। কাজ করার জন্য ‘টেম্পোরারি রেসিডেন্সি’ পেয়েছেন কয়েক মাস আগে, যার মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। সম্প্রতি বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ফ্যামিলি ভিসায় যাওয়ার কারণে ইতালিতে তার অবস্থান নিয়ে হয়তো সরাসরি কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু তারপরও এক ধরনের চাপা উদ্বেগ রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বহু মানুষ অবৈধভাবে ইতালি ও গ্রিসে প্রবেশ করেছে। এদের অনেকেই ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে প্রবেশের জন্য ইতালিকে একটি ‘ট্রানজিট’ হিসেবে ব্যবহার করে। অবৈধভাবে প্রবেশ করে অনেকে কাজও করছিলেন দেশটিতে। কিন্তু সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘির উদ্যোগে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে একটি নতুন আইন করা হয়। এর আওতায় অভিবাসীদের অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ ও বসবাসের অনুমতিপত্র দেয়া শুরু হয় চলতি বছরই। যাকে 'টেম্পোরারি রেসিডেন্সি' বলা হয়। আরও পড়ুন: ইতালির নির্বাচন: বুথফেরত জরিপে ডানপন্থিদের জয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে যেকোনো অভিবাসী ইতালির সংশ্লিষ্ট দফতরে এই 'টেম্পোরারি রেসিডেন্সি'র জন্য আবেদন করতে পারেন। কোনো ব্যক্তিকে প্রথমবার এই অনুমতিপত্র দেয়ার পাঁচ বছর পর তিনি পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ভেনিসের একটি আবাসিক হোটেলের মালিক আবেগ আল মামুন। তিনি জানান, টেম্পোরারি রেসিডেন্সিতে সাধারণত প্রথমে ছয় মাসের অনুমতি দেয়া হয়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে ওই অনুমতিপত্র নবায়ন করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে নবায়নের সময় কর্তৃপক্ষ চাইলে অনুমতি নাও দিতে পারে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় শঙ্কা গত ১৩ মাস ধরে রাজধানী রোমে রয়েছেন সামিউল ইসলাম। এটি তার ছদ্ম নাম। ইতালি পৌঁছে প্রায় সাত মাস বেকার থাকার পর চলতি বছরের এপ্রিলে অস্থায়ীভিত্তিতে কাজ ও বসবাসের অনুমতিপত্র নিয়ে রোমে কাজ করছেন তিনি। তবে স্থায়ী পারমিট নেই বলে খুবই অল্প বেতনে কাজ করতে হচ্ছে তাকে। তিনি বলেন, ‘টেম্পোরারি রেসিডেন্সির কারণে মনে একটা আশা তৈরি হয়েছে যে, ঠিকমতো কাজ করলে এক সময় বৈধভাবে এখানে স্থায়ীভাবে থাকতে পারব। কিন্তু এখন কী হবে বুঝতে পারছি না।’ নতুন সরকারের নীতির কারণে কাজের অনুমতিপত্র নবায়নে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা আল মামুনের। এদিকে নতুন কট্টর ডানপন্থী সরকারের অভিবাসন নীতিমালার পাশাপাশি মুসলিমবিরোধী মনোভাব রয়েছে বলেও মনে করেন অনেকে। জর্জিয়া মেলোনি নির্বাচনী প্রচারণায় একাধিকবার ইতালিতে মুসলিম অভিবাসীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। চাকরি নিয়ে শঙ্কার পাশাপাশি সামিউল ইসলামের আরেকটি ভয় হলো, মুসলিম হওয়ার কারণে তিনি সরকারের ‘নজরে’ পড়তে পারেন।






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply