Sponsor



Slider

বিশ্ব

জাতীয়

সাম্প্রতিক খবর


খেলাধুলা

বিনোদন

ফিচার

mujib

w

যাবতীয় খবর

জিওগ্রাফিক্যাল

ফেসবুকে মুজিবনগর খবর

» » » » নিউইয়র্ক টাইমস বিশ্ব কি আরও রক্তাক্ত এক যুগে প্রবেশ করছে?




যুদ্ধ সর্বত্রই বাড়ছে। ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে গত ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে কমপক্ষে ১৮৩টি আঞ্চলিক সংঘাত ঘটেছে, যা গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের দেশগুলোতে একের পর এক সেনা অভ্যুত্থান ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত বৈশ্বিক সহিংসতার নতুন যুগ চলছে। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো শান্তি ও উন্নয়নের কথা বলে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল। আটলান্টিক মহাসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলের দেশগুলোতে একের পর এক সেনা অভ্যুত্থান ঘটেছে। যার ফলে এই অঞ্চল ‘ক্যু বেল্ট’ বা ‘অভ্যুত্থান এলাকা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ২০২০ সাল থেকে আফ্রিকায় ১১টি অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে; যার মধ্যে সফল হয়েছে আটটি। মনোবিজ্ঞানী ও লেখক স্টিভেন পিঙ্কার ‘দ্য বেটার অ্যাঞ্জেলস অব আওয়ার নেচার’ নামে একটি বই লেখেন, যা এক দশক আগে প্রকাশিত হয়। বইটিতে মানবজাতির বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বইটির মূল প্রস্তাব ছিল মৃত্যু সম্পর্কে। পিঙ্কার বলেন, বিশ্বব্যাপী হত্যা এবং যুদ্ধের হার উল্লেখযোগ্য হারে ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্তিপূর্ণ। মানব সভ্যতার সময়সীমার বিচারে পিঙ্কারের এ প্রস্তাব বিশেষ করে আন্তঃব্যক্তিক সহিংসতার ক্ষেত্রে এখনও সত্য হতে পারে। তবে মানব স্মৃতির সময়ের হিসেবে এটি আর সত্য নয়, বিশেষ করে যখন এটি যুদ্ধের বিষয় আসে। সংঘাতের সংখ্যা হিসাব করলে সমগ্র বিশ্বে গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ অবস্থা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংঘাতপূর্ণ। সুইডেনের উপসালা কনফ্লিক্ট ডেটা প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে বেসরকারি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০০৯ সাল থেকে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহিংসতা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে এবং গুপ্ত হত্যার চেষ্টা বাড়ছে। এ সংঘর্ষগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে রক্তপাতের জন্ম দিচ্ছে। স্টিভেন পিঙ্কারের বেটার অ্যাঞ্জেলস প্রকাশিত হয়েছিল ২০১১ সালে। ওই বছর বিশ্বব্যাপী যুদ্ধে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ২ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি ছিল, যা প্রায় ছয়গুণ বেশি। গত এক বছরে এটি আরও দ্বিগুণ হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকটগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে আফ্রিকার দেশ সুদানে। দেশটিতে গৃহযুদ্ধে প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। প্রায় ৮০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের মতে, সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে সুদানে। আরও পড়ুন: পশ্চিমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কেন সবাই? আফ্রিকা মহাদেশের আরেক দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে চলমান সহিংসতায় প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটিতে চলতি বছরে শান্তিরক্ষীদের প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করেছে জাতিসংঘ। ইয়েমেনে চলমান সংঘাতে আড়াই লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ২ কোটিরও বেশি মানুষের জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা প্রয়োজন। ইথিওপিয়ায় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধে গত দুবছরে প্রায় ৬ লাখ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। কনফ্লিক্ট অ্যান্ড হেলথ জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ মারা গেছেন। তবে সবেচেয়ে বেশি অস্থিরতা চলছে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে। হর্ন অব আফ্রিকা বা আফ্রিকার শৃঙ্গ ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, জিবুতি ও সোমালিয়ায় অঞ্চলে অস্থিরতা ব্যাপক হারে বেড়েছে। বছর পাঁচেক আগে কিছু রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেছিলেন যে, সামরিক অভ্যুত্থান থেকে বিশ্ব বেরিয়ে আসার পথে রয়েছে। আমরা যদি আটলান্টিক মহাসাগর থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত দেশগুলোর দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো যে, গত পাঁচ বছরে এই অঞ্চলের বহু দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের ঘটনা ঘটেছে। গিনি, বুরকিনা ফাসো, চাদ, নাইজার, মালি এবং সুদানে এ অভ্যুত্থানের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, দুর্বল রাষ্ট্র কাঠামো, শক্তিশালী সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জীবনযাত্রার সংকট, বিশালাকার তরুণ জনগোষ্ঠী ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। এ সবকিছু সম্মিলিতভাবে তরুণদের মাঝে হতাশার বীজ বুনে দিচ্ছে ও প্রাতিষ্ঠানিকতার প্রতি তারা আস্থা হারাচ্ছেন। আরও পড়ুন: মসজিদে নামাজের সময় বন্দুক হামলা, নিহত অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইরো এবং মুতিগা একে ‘আফ্রিকান গণতন্ত্রের সংকট’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নৌনিহাল সিংয়ের মতে, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বিশ্বব্যাপী পিছিয়ে যাওয়ার একটি দৃশ্যমান উদাহরণ আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল। করোনা মহামারি ও এর মধ্যেই ইউরোপে শুরু হওয়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কঠিন প্রভাব পড়ে সাহেল অঞ্চলে। জনগণের আয় কমে গেছে, দেশগুলো সার্বভৌম ঋণ সংকটের মধ্যদিয়ে লড়াই করছে এবং মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। ক্রমাগত নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় আফ্রিকার জনজীবনে চরম দুর্দশা দেখা দিয়েছে। এতে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনাও বাড়ছে। বাড়ছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কতটা? সারা বিশ্বেই উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে আফ্রিকায় এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক্স অ্যান্ড পিস সাহেল অঞ্চলকে পরিবেশগত হুমকির হট স্পটগুলোর মধ্যে একটি বলে চিহ্নিত করেছে। নটরডেমের গ্লোবাল অ্যাডাপ্টেশন ইনিশিয়েটিভের সূচক অনুসারে, ওই অঞ্চলের ছযটি দেশই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকবিলায় বিশ্বের সবচেয়ে কম প্রস্তুত স্থানগুলোর মধ্যে স্থান পেয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘ সতর্ক করে বলেছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃহত্তর সাহেল অঞ্চলের ১০টি দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং আরও সংঘাতের কারণ হতে পারে। গত পাঁচ বছরে সেই ১০টি দেশ মোট আটটি সফল অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে। আরও পড়ুন: যুদ্ধের ২ বছর: নিষেধাজ্ঞায় কী কাবু হবেন পুতিন? যদিও অর্ধ শতাব্দী ধরে এ অঞ্চলজুড়ে পরিবেশগত বিপর্যয়ের ইতিহাস রয়েছে। তদুপরি সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বেশ তাৎপর্য বহন করে। গত ২০ বছরে নাইজারে নযটি খরা এবং পাঁচটি বড় বন্যার ঘটনা ঘটেছে। প্রতি চার বছরে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি দেশটির অনেক অংশে গত এক দশকে ভালো ফসল হয়নি। ২০২২ সালে মালি এবং চাদে ব্যাপক বন্যা হয়েছিল। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন (ডব্লিউডব্লিউএ) নেটওয়ার্কের অনুমান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। ডব্লিউডব্লিউএর মতে, হর্ন অফ আফ্রিকার দেশগুলোতে তিন বছরের খরায় ৪০ লাখের বেশি মানুষকে মানবিক সহায়তার প্রয়োজন হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরার সম্ভাবনা ১০ গুণ বেড়েছে। এ বিপর্যয়গুলো সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার উৎস নয়। বিশ্বের অনেক অস্থিতিশীল অংশের মতো জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ঘটাতে পারে না, তবে এটি এরই মধ্যে ভঙ্গুর সিস্টেমগুলোকে চাপে ফেলেছে। গত আগস্টে রোজা লুক্সেমবার্গ ফাউন্ডেশনের রোল্যান্ড এনগাম দক্ষিণ আফ্রিকার ডেইলি মেভরিক পত্রিকায় এক নিবন্ধে বলেন, সব অভ্যুত্থানের পেছনে দুর্বল প্রতিষ্ঠান দায়ী। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, যা গত শতাব্দীতে বাস্তুতন্ত্রের বড় বিপর্যয় ঘটিয়েছে। একই সময়ে গাম্বিয়ার পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ উপনেতা আবদৌলি সিসেই দ্য নিউ ইন্টারন্যাশনালিস্টে এক নিবন্ধে বলেন, ‘সরল সত্য হলো যে দারিদ্র্য, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, অর্থনৈতিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়া বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামরিকতন্ত্রের উত্থান ঘটে। নিবন্ধের উপসংহারে তিনি বলেন, এ সংকটগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে খাটো করে দেখানোর বিষয়টা আমার কাছে অশ্লীল বলে মনে হয়






«
Next
Newer Post
»
Previous
Older Post

No comments:

Leave a Reply